রকেটের গতিতে ঊর্ধ্বগামী তেল

Photo: Magnific

আজ বুধবারেও ঊর্ধ্বগামী অপরিশোধিত তেলের দাম।  আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধের ফলে এই মুহূর্তে ফের অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। আর তার জের এসে পড়েছে বিশ্ববাজারে। বাদ যায়নি ভারতও। আজ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঘোরাফেরা করছে ব্যারেল পিছু ৮৫ ডলারে। যা আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই চিন্তা বাড়াচ্ছে।

গতকালের থেকে আজ সমস্ত ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে অনেকটাই। আজ ডবলুটিআই ক্রুডের দাম ঘোরাফেরা করছে ৮০.০৫ ডলারে। যা গতকালের থেকে প্রায় ০.৮৯ শতাংশ বেশি।  অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ রয়েছে ৮৫.৭৯ ডলারে। যা গতকালের তুলনায় ১.২৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে মারবান ক্রুডের দাম আজ রয়েছে ৮১.৯৩ ডলার। যা গতকালের তুলনায় ৪.৮৫ শতাংশ। এছাড়াও ন্যাচারাল গ্যাসের দাম রয়েছে ২.৯১৬ ডলার। যা গতকালের তুলনায় ০.৪১ শতাংশ বেশি।

 


এই দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ইতিমধ্যেই একাধিক দেশ উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন। সেই সঙ্গে একাধিক পোর্ট আটকে দিয়েছেন। আর সেই কারণে আবারও বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

তেলের দুনিয়ায় হরমুজ প্রণালী গোটা বিশ্বের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ইরান বরাবরই এই জায়গার উপরে নিজের অধিকার ফলিয়ে এসেছে। আর তা না পসন্দ ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আর সেই কারণেই বারবার ইরানের উপরে আক্রমণ চালাচ্ছে সে। যদিও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমান ভূ রাজনৈতিক এই তেলের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। তবে এই ঊর্ধ্বগামী দামের পরিস্থিতি খুব বেশিদিন থাকবে না বলেও জানাচ্ছেন সকলে। এই মুহূর্তে চিন সহ একাধিক দেশ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। সেই সঙ্গে বর্তমানে যে সকল জাহাজ হরমুজে রয়েছে তাদের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখছে।

গতকাল মঙ্গলবারে, এক ধাক্কায় চার শতাংশ বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম। সেক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৭৯.১ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তরোত্তর তেলের দাম বাড়তে থাকলে দেশেও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ প্রতি ২০ শতাংশ কর চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে যে কোনও জাহাজ গেলেই, কর দিতে হবে ২০ শতাংশ। এই ব্যবস্থা লাগু হলে হরমুজে জাহাজ পরিবহন খরচ বাড়বে। স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রভাব পড়বে পণ্য এবং জ্বালানির দামে।