ইরান পরমাণু বোমা তৈরির পথে এগোচ্ছে—এই অভিযোগ ঘিরেই সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা অর্জনের দাবি সামনে এনে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যৌথ সামরিক অভিযান চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনিকে হত্যা এবং একাধিক পরমাণু কেন্দ্রে হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে।
তবে মঙ্গলবার গভীর রাতে রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) জানায়, ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে—এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ তারা পায়নি। সংস্থার প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বলেন, ‘আমরা পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাইনি।‘
যদিও তিনি একইসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ইরানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া আইএইএ-র পরিদর্শকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছর গাজা যুদ্ধের আবহে ইরানের একাধিক পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। দাবি করা হয়েছিল, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ কর্মসূচির সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যদিও তেহরান বরাবরই বলে এসেছে, তাদের কর্মসূচি কেবল জ্বালানি ও গবেষণার উদ্দেশ্যে।
পরমাণু অস্ত্রের অভিযোগ ঘিরে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ইতিহাস নতুন নয়। ২০০৩ সালে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগ তুলে হামলা চালায় আমেরিকা। সে সময় ইরাকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সাদ্দাম হুসেন। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ২০০৬ সালে ফাঁসি দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই অতীত স্মৃতিকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।