ফের ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি আমেরিকা

ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো অয়েল ইকোনমি’-র বিরুদ্ধে ফের কড়া পদক্ষেপ করল আমেরিকা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় নতুন করে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার অভিযোগ, অবৈধ তেল বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে তেহরান, যা ব্যবহার করা হচ্ছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠী এবং পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক কার্যকলাপ চালাতে।

মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানান, এই পদক্ষেপ আমেরিকার ‘ইকনমিক ফিউরি’ অভিযানের অংশ। তাঁর দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের সেই বিপুল অর্থের উৎসে আঘাত হানা হবে, যা IRGC এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যে কোনও সংস্থা বা ব্যক্তি যদি ইরানের তেল বাণিজ্যে যুক্ত থাকে, তা হলে তাদেরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে একাধিক সংস্থা, ব্যক্তি এবং জাহাজকে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানি পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহণে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আমেরিকার দাবি, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান বছরে কয়েকশো কোটি ডলারের রাজস্ব আয় করে, যা পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।


নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে আটটি সংস্থা এবং আটটি জাহাজকে ‘ব্লকড প্রপার্টি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও তিনটি সংস্থা এবং এক ব্যক্তির উপরও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে।

একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ হংকং-ভিত্তিক একটি তেল বিক্রয় নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক কয়েক কোটি ব্যারেল ইরানি তেল পরিবহণ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার আর্থিক মূল্য কয়েকশো কোটি ডলার। আমেরিকার দাবি, এই অর্থ সরাসরি IRGC এবং ইরানের সামরিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়াও ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় IRGC-র আর্থিক নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে আমেরিকা। বিশেষ করে হামাস, হিজবুল্লা এবং ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে IRGC-র আর্থিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

আমেরিকার এই নতুন পদক্ষেপকে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ম্যাক্সিমাম ইকনমিক প্রেসার’ নীতির আরও এক ধাপ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।