নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গড়ার পথ কার্যত বন্ধ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সামনে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে সরকার গড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ। আর তাতেই সুর চড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর হুঁশিয়ারি, আরব দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গড়লে ইজরায়েলের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। আইজেনকটকে ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের’ সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে বিদ্ধ করে জাতীয় ঐক্যের সরকার গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাতে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু জানান, আইজেনকট তাড়াহুড়ো করে এমন একটি সরকার গড়তে চাইছেন, যারা ইজরায়েল রাষ্ট্রকেই মুছে দিতে চায়। তাঁর অভিযোগ, আরব দলগুলি প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সমর্থক। তাদের সমর্থনে সরকার গঠিত হলে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই দুর্বল হয়ে পড়বে। গাজা ও লেবাননে ইজরায়েলি সেনার অভিযানও বাধার মুখে পড়বে। এমনকী দেশে অশান্তি ও গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর প্রস্তাব, জাতীয় ঐক্যের সরকারে তাঁর লিকুদ পার্টির পাশাপাশি বর্তমান জোটের সব শরিককেও রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অতি দক্ষিণপন্থী রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি, ওৎজমা ইয়েহুদিত এবং অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলি। তাঁর দাবি, এই সরকারই ইজরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে সুরক্ষিত রাখতে পারবে এবং ইরানের পরমাণু অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে।
তবে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবকে ভণ্ডামি বলে কটাক্ষ করেছে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি। তাদের বক্তব্য, সত্যিই জাতীয় ঐক্য চাইলে নেতানিয়াহুকে আগে উগ্রপন্থী শরিকদের সঙ্গে জোট ভাঙতে হবে। আইজেনকটের ঘোষিত চারটি শর্তও মেনে নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ধ্বংস করা। এর পাশাপাশি ইজরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে চলা এবং দেশের সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় পরিষেবা চালু করা।
নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আইজেনকটের চার দলের জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। দুই আরব দল পেয়েছে মোট ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের অঙ্কে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শরিক অতি রক্ষণশীল ইউনাইটেড টোরা জুডাইজ়ম পার্টি আইজেনকটকে সমর্থন করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় দেওয়া হতে পারে। তবে আইজেনকট জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনও ভাবেই সরকার গড়বেন না তিনি। তিনি ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে সুযোগ দিতে পারেন। ১০০ দিনের মধ্যে কেউ সরকার গড়তে না পারলে ইজরায়েলে নতুন করে নির্বাচন হবে।