বন্যার কবলে নেপাল, ভাসল ৩৫টিরও বেশি বাড়ি, নিখোঁজ ৪

Photo: Statesman

ফের নেপালে বিপর্যয়। নেপালের উত্তর গোরখা বুড়ি গণ্ডকী নদীতে রবিবার ভোরে ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কাদামাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে ভেসে গিয়েছে ৩৫টিরও বেশি বাড়ি। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চুমানুব্রি ও ধারচে গ্রামীণ পুরসভা এলাকা। এখনও পর্যন্ত ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ উগুলুং ও স্যর নদীর দিক থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান বাসিন্দারা। সেই সময়ে হুড়মুড়িয়ে জনবসতিতে জল ঢুকে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা ছুটে যান। সারাদিন নদীর জলস্তর ওঠানামা করছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

চুমানুব্রি এলাকার সাল্লেরি, বাগার, ঘাট্টিখোলা-সহ একাধিক জায়গায় বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে। পাইয়ু, বাগার, দোভান, জগৎ ও সাল্লেরি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাজার এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারচের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ২০-২২টি বাড়ি বিপদের মুখে রয়েছে। ন্যাকফেদি এলাকার কয়েকটি হোটেলও বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে।


বন্যার জেরে দুটি ঝুলন্ত সেতু এবং একটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী লোহার সেতু ভেসে গিয়েছে। এছাড়া ধাদিং ও গোরখা জেলার মধ্যে সংযোগকারী আরুঘাট ঘাটের সেতুটিও ধ্বংস হয়েছে। ফলে একাধিক গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানাসলু সার্কিট ট্রেকিং রুটেও যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে।

সাল্লেরিতে বুড়ি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির ও বেশ কিছু যন্ত্রপাতিও বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পের কাজ এখনও চলছে। চুমানুব্রি-৬ এলাকার চুমচেত গ্রামে উগুলুং নদীর ধারে একটি অস্থায়ী ঘরে বসবাসকারী চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের ওই ঘরটিও বন্যায় ভেসে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ৪টি গবাদি পশুর খোঁয়াড় ভেসে গিয়েছে। ধারচে-১ এলাকার ইয়ারুখোলা সংলগ্ন জঙ্গলে আরও ১৫ জন আটকে পড়েছেন বলে খবর।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। আরুঘাট বাজার খালি করে দেওয়া হয়েছে। সিরদিবাস, খোরলাবেসি, মাচ্ছাখোলা, সোতি ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, নিহত ১২, আহত ৩০০-র বেশি

বন্যার সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক অনুমান, ভূমিধসের কারণে স্যর নদীর কোনও অংশে জল আটকে গিয়েছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল জলরাশি হঠাৎ নেমে আসে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। বন্যার জল নীচের দিকে ত্রিশূলী দোভান পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।