খসড়া ঘোষণাপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং ২০২৭ সালেও একই পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হবে। সামরিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬০ বিলিয়ন ইউরোর একটি ঋণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে নিজেদের জাতীয় বাজেট থেকে প্রতি বছর প্রায় ৪০ বিলিয়ন ইউরো করে ব্যয় করতে হবে।
এই ঘোষণাপত্রে ন্যাটো সনদের পঞ্চম অনুচ্ছেদের প্রতি আবার জোর দেওয়া হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জোটের একটি সদস্য দেশের উপর হামলাকে সব সদস্য দেশের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। যদিও ইউক্রেন এখনও ন্যাটোর সদস্য নয়, তবু রাশিয়ার আগ্রাসন ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে বলে ন্যাটোর এই অবস্থান।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছেন এবং ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন। প্রায় ১৪ মাস আগে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বৈঠকের পর থেকেই ওয়াশিংটনের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনকে সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভে রাশিয়ার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রায় ৩০ জন নিহত ও ৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। বহু ভবন, আবাসস্থল, পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর জেলেনস্কি প্রায় ৪০টি মিত্র দেশের কাছে দ্রুত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেরি হলে আরও বড় হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ইউক্রেনের।
তবে ন্যাটোর সব সদস্য একই অবস্থানে নেই। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে সাহায্যের ক্ষেত্রে নীতিগত সমর্থন থাকলেও ন্যাটোর নতুন আর্থিক প্রতিশ্রুতিতে পোল্যান্ড অংশ করবে না। কারণ তাদের নিজেদের নিরাপত্তাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। এছাড়াও অতীতের কিছু ইস্যু নিয়ে পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও খসড়া এই ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্পর্কেও ন্যাটোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইরানের হাতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আহ্বানও জানানো হয়েছে।