গ্রিনল্যান্ড দখলে ন্যাটোর জোট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন প্রাক্তন কূটনীতিক অশোক সাজ্জনহার

গ্রিনল্যান্ড দখলের ভাবনা বাস্তবায়িত হলে ন্যাটোর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক অশোক সাজ্জনহার। তাঁর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের পথে হাঁটেন, তা হলে আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর ভিতরে এমন গভীর ফাটল ধরবে, যা শেষ পর্যন্ত জোট ভেঙে যাওয়ার দিকেই ঠেলে দিতে পারে।

একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক আলোচনায় অশোক সাজ্জনহার বলেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত ভূখণ্ড এবং ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য দেশ। সেই পরিস্থিতিতে কোনও সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ড জোর করে দখলের চেষ্টা ন্যাটোর মূল নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, ‘ন্যাটো গঠিত হয়েছে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তার ভিত্তিতে। সেখানে এক সদস্য দেশের ভূখণ্ড আর এক সদস্য যদি দখল করতে চায়, তা হলে জোটের নৈতিক ভিত্তিই ভেঙে পড়বে।’

সাজ্জনহারের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ধরনের একতরফা অবস্থান ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে গভীর অনাস্থা তৈরি করবে। বিশেষ করে ডেনমার্ক, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলি ন্যাটোর উপর আমেরিকার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। তাঁর কথায়, ‘ন্যাটো শুধু একটি সামরিক জোট নয়, এটি রাজনৈতিক আস্থার কাঠামোও। সেই আস্থা ভাঙলে জোটকে একসঙ্গে ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’


প্রাক্তন এই কূটনীতিক আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু সেই গুরুত্বের অজুহাতে দখলদারি মানসিকতা দেখানো হলে তা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের নীতিও লঙ্ঘন করা হবে। এর ফলে শুধু ন্যাটো নয়, গোটা পশ্চিমি জোটব্যবস্থার উপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়া ও চিনের প্রভাব ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলা হলেও, এই পদক্ষেপ উল্টে আমেরিকার বিরুদ্ধেই ইউরোপীয় দেশগুলিকে একজোট করতে পারে। অশোক সাজ্জনহারের সতর্কবার্তা, এমন সিদ্ধান্ত নিলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ শুধু দুর্বল নয়, কার্যত অনিশ্চিত হয়ে যাবে।