পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মায়ানমার সরকার দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এমনটাই দাবি করেছেন। বুধার তিনি জানান, দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নিবন্ধিত ২ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজারই রোহিঙ্গা। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মায়ানমারে জাতিগত সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে পড়ে অসংখ্য রোহিঙ্গা বাংলাদেশ হয়ে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এতদিন মায়ানমার সরকার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে না চাইলেও এবার অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে দাবি করেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়িন ও গণহত্যার অভিযোগ ওঠে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সে সময় দেশটির ক্ষমতায় ছিল আউং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। পরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। অভ্যুত্থানের পর সু চি-সহ বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে আটক করা হয় এবং অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সামরিক শাসনের সময়ও রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন চলছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ছোট নৌকায় করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, গত এপ্রিল মাসে জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র বাবর বালোচ জানান, গত দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাওয়ার সময় পাঁচ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের পারাপারের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।গত বছর ৬ হাজার ৫০০-র বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনকভাবে সমুদ্র পারাপারের চেষ্টা করেন। যার মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন অথবা ডুবে মারা গিয়েছেন।