ইরান অভিযানে আমেরিকার বড় ভরসা এমকিউ-৯ ড্রোন: পেন্টাগন

ওয়াশিংটন, ২২ মে— ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে আমেরিকার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। মার্কিন বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকরা মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় চালানো একাধিক অভিযানে এই চালকবিহীন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পেন্টাগনের বক্তব্য, আধুনিক যুদ্ধে এখন ক্রমশ বাড়ছে চালকবিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থার গুরুত্ব।

মার্কিন বায়ুসেনার প্রধান জেনারেল কেনেথ উইলসবাখ কংগ্রেসের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির সামনে বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে এমকিউ-৯ ছিল সবচেয়ে কার্যকর প্ল্যাটফর্মগুলির একটি। তাঁর দাবি, এই ড্রোন ব্যবহার করে বহু হামলা চালানো হয়েছে এবং অন্য কোনও যুদ্ধবিমান সেই সংখ্যার কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি।

পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ড্রোন ব্যবহারের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে পাইলটদের ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালানো, নির্দিষ্ট লক্ষ্য চিহ্নিত করা এবং দ্রুত হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এমকিউ-৯ গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়েছে।


মার্কিন বায়ুসেনার সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা থাকলেও এমকিউ-৯ বহর সরিয়ে ফেলার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং ভবিষ্যতে আরও উন্নত চালকবিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থা আনার প্রস্তুতি চলছে, যা যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারবে।

পেন্টাগনের প্রস্তাবিত ২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে চালকবিহীন যুদ্ধ প্রযুক্তির জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ‘সহযোগী যুদ্ধবিমান’ প্রকল্পে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা তৈরি করা হবে, যা এফ-৪৭, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পাশে থেকে কাজ করবে।

জেনারেল উইলসবাখ জানিয়েছেন, এই স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয়েছে এবং আশাব্যঞ্জক ফল মিলেছে। তবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধবিমান বাস্তবে কার্যকর হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য প্রশ্ন তোলেন, ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমানের বদলে তুলনামূলক কম খরচের চালকবিহীন যুদ্ধ প্রযুক্তির উপর আরও বেশি জোর দেওয়া উচিত কি না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে কৃত্রিম মেধা এবং চালকবিহীন প্রযুক্তিই বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।