ইউরোপ সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম পর্যায়ে তিনি ফ্রান্সের নিস শহরে পৌঁছেছেন। সেখানে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ারও কথা রয়েছে। এই সফরে তিনি ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া এবং ফ্রান্স সফর করবেন।
নিস শহরে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে, গবেষণা ও মহাকাশ বিষয়ক মন্ত্রী ফিলিপ ব্যাপ্টিস্ট এবং ভারতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাথু। পাশাপাশি স্থানীয় ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের তরফেও তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সমাজ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘দেশ থেকে বহু দূরে থাকলেও ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে মাতৃভূমির সম্পর্ক অটুট’।
রবিবার অর্থাৎ আজ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চলতি বছরে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ককে স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-এর স্তরে উন্নীত করার পর এটি এই দুই নেতার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”fr” dir=”ltr”>Je viens d’atterrir à Nice. Outre Nice, cette visite en France comprend des programmes à Évian et à Paris. Elle sera marquée par des rencontres bilatérales et multilatérales, visant à renforcer les liens d’amitié de l’Inde avec ses partenaires clés en matière de développement.… <a href=”https://t.co/hB9zCWoWoZ”>pic.twitter.com/hB9zCWoWoZ</a></p>— Narendra Modi (@narendramodi) <a href=”https://x.com/narendramodi/status/2065851572513587536?ref_src=twsrc%5Etfw”>June 13, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
এই সফরেই দুই নেতা যৌথভাবে ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ নামে তিন দিনের একটি সম্মেলনের সূচনা করবেন। সম্মেলনে ভারত, ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশের স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি অংশ নেবে। উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ফ্রান্সের পর ১৫ জুন স্লোভাকিয়া সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ১৯৯৩ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এই দেশের সফরে যাচ্ছেন। স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।
পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন তিনি। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী আবার ফ্রান্সে ফিরবেন। এখানে তিনি জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন। ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে ১৬ ও ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে এই সম্মেলন। সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর।
জি-৭ বৈঠকে ভারতের ভূমিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত শুধু নিজের অবস্থানই তুলে ধরবে না বরং গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলির আশা-আকাঙ্খার প্রতিনিধিত্বও করবে। তিনি উল্লেখ করেন, টানা আটবার ভারতকে জি-৭ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গুরুত্বের প্রতিফলন।
১৮ জুন সফরের শেষ পর্যায়ে প্যারিসে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ‘ভিভাটেক ২০২৬’ প্রযুক্ত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গেও মত বিনিময় করবেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে ফ্রান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অগ্রগতিও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে মত তাঁর।