প্রায় ৩২০০ কিমি দূরের দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের সঙ্গে ভারতকে এক সুতোয় বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানালেন, ভারত মহাসাগর দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেনি। বরং তা আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। আজ রবিবার সেশেলসের ন্যাশানাল অ্যাসেম্বলির বক্তৃতায় দুই দেশের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।
এই নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনসভা মিলিয়ে ২০ বারর বক্তৃতা করা একমাত্র ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হলেন মোদী। পূর্ব আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়নন্তী উদযাপনে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ করা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। তিন দিন সসফরে শনিবারেই সেদেশে পা রেখেছেন তিনি। আজ রবিবারই সসে দেশের গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হরাইজন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। পরে সেদেশের পার্লামেন্টে বক্তৃতার সময়ে এই সম্মানের জন্য সমগ্র সেশেলসবাসীকে ধন্যবাদ জানান নমো।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক কূটনীতেত ভারতের গুরুত্ব বাডড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মোদী। তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বে গত ১২ বছরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ফিজি, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল ও ভূটানের পার্লামেন্টে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি। সেশেলসের পার্লামেন্টে বক্তৃতা ছিল ভিনদেশের আইনসসভায় তাঁর ২০ তম বক্তৃতা। এই ১২ বছরে মার্কিন কংগ্রেসে ২ বার বক্তৃতা দিয়েছেন তিনি। চলতি বছরে ইজরায়েলের পার্লামেন্টেও বক্তৃতা দিয়েছেনন তিনি। এছাড়াও ব্রিটেন, আফগানিস্তান, ইথিয়োপিয়া, নামিবিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ঘানা, গুয়ানা, মলদ্বীপ, উগান্ডা, মঙ্গোলিয়া, মরিশাস এবং শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টেও বক্তৃতা করেছেন তিনি।
আজ সেশেলসের পার্লামেন্টে বক্তৃতার সময়েই দ্বীপরাষ্ট্রের সাধারণ জনতাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। বলেন, ‘প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই পার্লামেন্টে ভাসন দিতে আসা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। আমি আপনাদের জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর শুভকামনা নিয়ে এসেছি।’
সেশেলসের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করান প্রধানমন্ত্রী। দ্বীপরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্ব ৫০ বছর আগে শুরু হয়নি। এই বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে। ১৭৭০ সালের অগস্টে। ওই সময়ে টেলম্যাক জাহাজে করে যাঁরা সেন্ট অ্যান দ্বীপে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন ভারতীয় ছিলেন। তা পরবর্তী সময়ে আরও অনেককে পথ দেখিয়েছিল।’