‘বিমানে বোমা রাখা রয়েছে, যে কোনও মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।’ মাঝ-আকাশে থাকা আমস্টারডম থেকে হায়দরাবাদগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে হঠাৎই পাইলটের কাছে এই ভয়াবহ বার্তা আসে। পরিস্থিতির গুরুত্ব আঁচ করে দ্রুত জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। এই হুমকি ঘিরেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনও অঘটন ছাড়াই নিরাপদেই বিমানটি হায়দরাবাদের শামসাবাদ বিমানবন্দরে নামে।
সূত্রের খবর, নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডম বিমানবন্দর থেকে কুয়ালা লামপুর এয়ারওয়েজের বিমানটি ওড়ার বেশ কিছুক্ষণ পরই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কাছে একটি হুমকি ইমেল আসে। ওই মেলে দাবি করা হয়, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বিমানটিকে বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গেই এটিসি কর্তৃপক্ষ বিমানের পাইলটকে সতর্ক করে। বোমার খবর জানতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেও জানা গিয়েছে।
জরুরি অবতরণের বার্তা পাওয়ার পরই হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে জারি করা হয় ‘রেড অ্যালার্ট’। রানওয়ের পাশে মোতায়েন করা হয় দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। পরে বোম্ব স্কোয়াড ও নিরাপত্তারক্ষীরা বিমানের প্রতিটি অংশ এবং যাত্রীদের লাগেজে তল্লাশি করেন। দীর্ঘ তল্লাশির পরেও কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তুর হদিশ মেলেনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত এক সপ্তাহে হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে এ নিয়ে তৃতীয়বার বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটল। এর আগে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি বিমানেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বারবার এমন ভুয়ো ইমেলের ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সাইবার ক্রাইম শাখা ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইমেলের উৎস এবং ব্যবহৃত আইপি অ্যাড্রেস খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।