পাকিস্তানে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। সংগঠনের প্রধান মাসুদ আজহারের দাদা মহম্মদ তাহির আনওয়ারের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। অসুস্থতা, না কি অন্য কোনও কারণ— তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার তাহিরের দেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন স্থানীয় সময় রাত ১১টা নাগাদ বহওয়ালপুরের জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে জইশের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়েছে। তবে সংগঠনের তরফে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি, যা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই জইশ-ই-মহম্মদের বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাহির। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর হাতেই ছিল। বিশেষ করে সশস্ত্র জঙ্গিদের দেখভালের দায়িত্ব তিনি সামলাতেন। পরে তাঁকে ‘মারকাজ় উসমান-ও-আলি’-র দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা জইশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওই ঘাঁটিতেই কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় নিয়েছিলেন মাসুদ আজহার বলেও দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত তথাকথিত ‘সিঁদুর অভিযান’-এর সময় এই ঘাঁটির নাম সামনে আসে। সেই সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল, যার মধ্যে বহওয়ালপুর অন্যতম। ওই হামলায় মাসুদ আজহারের পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
মাসুদ আজহার দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ তাঁকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০০২ সালে জইশ-ই-মহম্মদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে সংগঠনটি এখনও সক্রিয়। ভারতের সংসদ হামলা, পঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলা এবং পুলওয়ামা হামলার মতো একাধিক বড় জঙ্গি ঘটনার সঙ্গে এই সংগঠনের নাম জড়িত।তাহিরের রহস্যময় মৃত্যু ঘিরে জইশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।