পশ্চিম এশিয়ায় বিগত কয়েক মাসের সামরিক সংঘাতের আবহে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ছড়ায়। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। এক সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে অবশেষে স্বস্তির খবর মিলল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা হতে চলেছে বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প নিজে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একইসঙ্গে চাঙ্গা হয়ে ওঠে বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারও। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। পরিস্থিতির মোড় ঘোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক ঘোষণার পর। ট্রাম্প নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় দেশ অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালী টোলমুক্তভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের উপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু কর। তেল আবার প্রবাহিত হতে দাও’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
সোমবার মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম জুলাই ডেলিভারির ফিউচার মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০.৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩.৭৭ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে যে অতিরিক্ত ঝুঁকির মূল্য যুক্ত হয়েছিল, এই সমঝোতার ফলে তার বড় অংশই বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন। এই আবহে ভারতে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম কমবে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।