মহাশিবরাত্রিতে ভক্তদের ঢল নেপালের পশুপতিনাথ মন্দিরে

মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে নেপালের অন্যতম পবিত্র শিবধাম পশুপতিনাথ মন্দির-এ রবিবার ভোর থেকেই লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল নামল। ভোররাত থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। নেপাল, ভারত এবং অন্যান্য দেশ থেকে আগত শিবভক্তরা ‘ওম নমঃ শিবায়’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন গোটা এলাকা।

হিন্দুধর্মে পশুপতিনাথ মন্দিরকে শিবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কেদারনাথ মন্দির এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দির-এর পাশাপাশি বিশেষভাবে পূজনীয়। প্রতি বছর মহাশিবরাত্রির দিনে এখানে ভক্তদের বিশাল সমাগম হয়।

ভোর ২টো থেকেই খোলা মন্দিরের দরজা

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভক্তদের সুবিধার্থে ভোর ২টো থেকেই মন্দিরের চারটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। পশুপতি এলাকা উন্নয়ন ট্রাস্ট-এর কার্যনির্বাহী পরিচালক শুভাস চন্দ্র জোশি জানান, ‘ভোর থেকে ভক্তদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ ভক্ত ইতিমধ্যেই পূজা দিয়েছেন।’


মন্দির চত্বরে বিশেষ করে ভারত ও নেপাল থেকে আগত সাধু–সন্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩,০০০ সাধু ও সন্ন্যাসী এখানে এসেছেন, যাঁরা বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন নাগা সাধুও রয়েছেন, যাঁরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন।

আধ্যাত্মিক আবহে মুখর কাঠমান্ডু

মন্দির চত্বরে দিনভর চলে শিবপূজা, ধ্যান, যজ্ঞ এবং নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সাধু–সন্ন্যাসীদের উপস্থিতি এবং ভক্তদের ভক্তিভাব পুরো এলাকাকে আধ্যাত্মিক আবহে ভরিয়ে তোলে। ভক্তদের অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুধুমাত্র এই পবিত্র দিনে শিবের দর্শন পেতে এখানে আসেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমান, সারা দিনে প্রায় সাত লক্ষেরও বেশি ভক্ত পশুপতিনাথ মন্দিরে পূজা দিতে পারেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভক্ত ভারত থেকেও এসেছেন।

নিরাপত্তা ও পরিষেবায় বিশেষ ব্যবস্থা

উৎসব উপলক্ষে ভিড় সামলাতে বিশেষ নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভক্তদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পূজা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।

মহাশিবরাত্রির দিনে পশুপতিনাথ মন্দিরে এই বিশাল সমাগম আবারও প্রমাণ করল, নেপাল ও ভারতের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কতটা গভীর এবং অটুট।