পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপ এবার সরাসরি ছড়িয়ে পড়ল ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভয়াবহ নৌ সংঘর্ষে ডুবে গিয়েছে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় শ্রীলঙ্কার সাহায্য চেয়েছে আরেকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ।
বুধবার গভীর রাতে শ্রীলঙ্কা উপকূলের দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায় ইরানের ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’। অভিযোগ, একটি আমেরিকান সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া টর্পেডোর আঘাতেই মুহূর্তের মধ্যে জাহাজটি সলিল সমাধি লাভ করে। এই ঘটনায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নৌসেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। যদিও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরেই সতর্ক হয়ে ওঠে অন্যান্য নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার সাংসদ নমল রাজাপক্ষে সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে শ্রীলঙ্কার এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনে অবস্থান করছে। জাহাজটি জরুরি ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কার বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চেয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে সরকারিভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর আগে শ্রীলঙ্কার তথ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নলিন্ডা জয়তিসসা জানিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কার জলসীমার ঠিক বাইরে আরও একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ঘোরাফেরা করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা দপ্তর।
জানা গিয়েছে, ডুবে যাওয়া ‘আইআরআইএস ডেনা’ জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া ‘মিলন ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করে ইরানে ফিরছিল। সেই সময় ইরান থেকে প্রায় ২ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরে এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। জাহাজটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডুবে যায়। এই বিপর্যয়ের পরে শ্রীলঙ্কা মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ৩২ জন ইরানি নৌসেনাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে এসেছে। তবে এখনও বহু নৌসেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই হামলাকে ওয়াশিংটনের ‘বড় জয়’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে আমেরিকা ‘ধ্বংসাত্মক ও নির্দয়’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।
এদিকে এই ঘটনার পর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।