১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন বাংলা ভাষার দাবি ও মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ দিয়েছিলেন বাঙালি যুবকেরা। এই বাংলা ভাষার আন্দোলন ক্রমশ সামগ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রূপ নেয় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে। এই আন্দোলনের গর্ভেই প্রোথিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ। পরবর্তীকালে বাংলাদেশে ২১ ফেব্রুয়ারি বা ভাষা আন্দোলনের দিনটি ভাষা দিবস হিসেবে বিপুলভাবে উদ্যাপিত হতে থাকে। পরে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এমনকি ২০১০ সালের পর থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘেও প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়ে থাকে।
যে ২১ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’, বাংলাদেশে এবার সেই ভাষা দিবসের ছুটি বাতিল করল ইউনূস সরকার। বাতিল করা হয়েছে মে দিবসের ছুটিও। এছাড়াও বাংলাদেশে এবার সরস্বতীর পুজো, বুদ্ধ পূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী, মহালয়ার কোনও ছুটি পাবেন না হিন্দুরা।
২০২৫ সালের শেষে নতুন বছরের ছুটির যে তালিকা প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার সেই তালিকা থেকেই জানা গিয়েছে এই সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এই দিনগুলিতে খোলা থাকবে সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা যে কোনও প্রতিষ্ঠান। অবশ্য, রমজান ও ইদ-উল-ফিতরে ছুটি দিলেও আগের তুলনায় দিনের সংখ্যা কমেছে। তবে এইসব ছুটির মধ্যেই সবচেয়ে বিতর্কের জায়গা ভাষা দিবসের ছুটি ও মে দিবসের ছুটি। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এই নির্দেশিকায় সংখ্যালঘু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগও উঠেছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরবর্তী ধাপে সর্বস্তরে এই ছুটি বাতিলের ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী নেতাদের। অনেকের অভিযোগ, এবার ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে দিতে ইউনূস সরকারের এই আদেশ। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় এমন একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। মুছে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রসঙ্গ।
ভাষা দিবসের ছুটি বাতিল নিয়ে ইতিমধ্যে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে দেশ বিদেশের বিদ্বজ্জনেদের। বাংলাদেশের এই খবরে হতবাক হতে দেখা গিয়েছে বহু সাহিত্যিক-ভাষাবিদদেরও। ছুটি বাতিলের এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘গোটা পৃথিবীতে যে দিনটিকে মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়, এটা তো বাংলাদেশের অবদান বলেই ধারণা ছিল।