ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরলেন কিয়ের স্টার্মার। একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বও থেকেও ইস্তফা দিলেন বলে খবর। সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্ত্রীকে পাশে নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। স্টার্মার জানান, সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই রাজা তৃতীয় চার্লসকে ফোনে জানিয়েছেন।
স্টার্মারের কথায়, আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান নিয়ে লেবার পার্টির ভিতর প্রশ্ন উঠেছিল। পার্লামেন্টারি দলের মতামত তিনি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন বলেও জানান। তাঁর দাবি, দেশের স্বার্থকেই সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং সেই কারণেই দলনেতার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেন। তবে পদত্যাগের পর এবার পরিবারকে আরও বেশি সময় দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। বক্তব্যে তিনি বলেন, স্ত্রীর আরও ভালো সঙ্গী এবং সন্তানদের আরও ভালো বাবা হয়ে ওঠাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বক্তব্য শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ফিরে যান।
কিছু দিন ধরেই স্টার্মারের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। দলের অন্দরে এবং জনমতের ক্ষেত্রেও তাঁর উপর চাপ বাড়ছিল বলে খবর। আগামী নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এড়াতে লেবার পার্টি ঝুঁকি নিতে চাইছিল না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পদত্যাগ দিলেও নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ঋষি সুনকের কনজারভেটিভ পার্টিকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে লেবার পার্টি। সেই জয়ের মুখ ছিলেন স্টার্মার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হল।
ব্রিটেনের সংবিধান অনুযায়ী, সরকার এখনই বদলাবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত লেবার পার্টিই নিজেদের নতুন নেতা নির্বাচিত করবে এবং সেই নেতাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।