‘ভারতের সাহায্য দরকার’, পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আর্জি জেএএসি নেতার

Photo: ANI

ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির। পাকিস্তান প্রশাসনের দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যেই ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানালেন জেএএসির নেতা সর্দার আমন খান। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও-য় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, পাকিস্তানের পদক্ষেপে সেখানে খাদ্য, রেশন ও ওষুধের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তাই ভারতের কাছে তিনি সাহায্য আবেদন জানিয়েছেন। যদিও এই ভিডিও-র সত্যতা(দৈনিক স্টেটসম্যানের ডিজিটালের তরফে) যাচাই করা হয়নি।

জানা গিয়েছে, গত ৩০ জুন রাওয়ালকোটের ইদগাহ ময়দানে একটি সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আমন খান বলেন, ‘আমাদের ভারতের সাহায্যের প্রয়োজন। রেশনের অভাব রয়েছে। আমাদের সাহায্য করুন।’ তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমন করতে পাকিস্তান প্রশাসন কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, রেশন ও ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আমন খান তাঁর ভাষণে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত খুলে দেওয়ারও আবেদন জানান। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের যাতে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকে সেই ব্যবস্থা করা উচিত। পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরে সীমান্ত খুলে দেওয়ার জন্য তিনি আর্জি জানিয়েছেন। সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ রেখার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে বহু মানুষ তাতে সমর্থন জানান বলেও ভিডিও-য় দেখা গিয়েছে।


আমন খানের আরও দাবি, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী যদি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালায় তাহলে প্রতিবাদীদের কাছে অন্য পথও খোলা রয়েছে। তবে সেই বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি। গত মাস থেকেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের হাতে কার্যত কোনও ক্ষমতা নেই। সব সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। গত সপ্তাহে রাওয়ালকোটের এক সমাবেশে ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়’ এবং ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’-এর মতো স্লোগানও শোনা গিয়েছে।

এই আবহেই গত ৫ জুন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার। সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলিকে ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ফলে সেখানকার নিজস্ব আঞ্চলিক বা স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে তাদের ক্ষমতা ও প্রভাবও ক্রমশ কমে যাচ্ছে।