ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সরাসরি ফোনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে ভারতের তীব্র আপত্তির কথা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই ইস্যুতে দ্বিতীয়বার শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করেছিল।
শনিবার ভোরে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এ ধরণের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য নয়।’ তাঁর মতে, অসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব দেশেরই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
ওমান উপসাগরের কাছে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি সেট্টেবেলো-তে হামলার সময় ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী এমটি জলবীর-সহ ভারতীয় নাবিক থাকা আরও কয়েকটি জাহাজও হামলার মুখে পড়েছিল। গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি ভারতীয় ক্রুবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
ঘটনার পর দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ অফ দ্য অ্যাফেয়ার্স জ্যাসন মিকস-কে তলব করে ভারত। বিদেশমন্ত্রক জানায়, এই ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। ভবিষ্যতে যাতে এমনভাবে প্রাণহানি না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করারও দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, কিছু জাহাজ ইরানের বিরুদ্ধে জারি করা নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছিল। সেই কারণেই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ভারত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয়। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাওয়া ভারতীয় জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ইরান ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান।