ফ্লাইদুবাই বিমানে প্রায় দেড়শো ইজরায়েলি, গুলি করে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ইজরায়েল, দাবি সিবিএসের  

Image: SNS

আকাশেই ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীবাহী বিমানটি গুলি করে নামানোর প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল ইজরায়েল। বিমানটির ককপিটে হামলা এবং আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে, বিমানটি ইজরায়েলের আকাশসীমার দিকে এগিয়ে এলে তাকে ধ্বংস করার প্রস্তুতি ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। ইজরায়েলের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

ঘটনাটি গত ৩০ সেপ্টেম্বরের। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমান। বিমানে ১৭০-র বেশি যাত্রী ও কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনই ইজরায়েলের নাগরিক। উড়ানের মাঝপথে ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। কুঠার দিয়ে হামলার জেরে গুরুতর জখম হন স্মিত।

একই সময়ে বিমানটি আচমকা কয়েক হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি দেখে ইজরায়েল কর্তৃপক্ষ ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও উত্তর না মেলায় দ্রুত একটি কমান্ড সেন্টার তৈরি করা হয়। ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, যুদ্ধবিমান কাছে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। বিমানটি ছিনতাই হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেলে এবং সেটি ইজরায়েলের দিকে এগোলে প্রয়োজনে আকাশেই সেটিকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারত।


ইজরায়েলি সূত্রের দাবি, ৯/১১-র মতো ঘটনা এড়ানোর জন্যই এই ধরনের জরুরি ব্যবস্থা আগে থেকেই তৈরি রয়েছে। কোনও ছিনতাই করা বিমান গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ইজরায়েলের আকাশসীমায় পৌঁছনোর আগেই বিমানটি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়। ফলে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলিকেও আর এগোতে হয়নি।

আরও পড়ুন: কৃষ্ণসাগরে রুশ ড্রোন হামলা, তুরস্কের কার্গো জাহাজে নিহত ২, আহত ভারতীয়

এদিকে, হামামিকে জেরা করে তদন্তকারীরা তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন বলে ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের দাবি। তদন্তকারীদের কাছে হামামি নাকি স্বীকার করেছেন, বিমানটি দখল করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেটি সম্ভব না হলে তেল আভিভের কোনও উঁচু ভবনে বিমানটি ধাক্কা মারার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। গাজায় ইজরায়েলি হামলার বদলা নিতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় হামামির সঙ্গে আর কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।