বেন গাভিরের দাবি, অতীতে বেশ কয়েকবার আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছে ইজরায়েলকে। তার জন্য চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। আর সেই কারণেই হিজবুল্লাহ বা বা ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে ইজরায়েলের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল না করে কোনও আপস করা উচিত নয়। এমনকি লেবানন থেকে ইজরায়েলের উপর হামলা হলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিরোধী নেতা বেনি গ্যান্টজও। তাঁর আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ভবিষ্যতে ইজরায়েলের জন্য কুটনৈতিক, সামরিক ও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা বা সামরিক পদক্ষেপ করার স্বাধীনতা খর্ব করে এমন কোনও সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে শান্তি সমঝোতা হওয়ার আগে অন্যতম শর্ত ছিল ইজরায়েলকে লেবাননে হিজবুল্লাহর উপর আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তারপরও বেইরুটে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ফলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্রে ইজরায়েল ও লেবাননের সংঘাত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জও জানিয়ে দিয়েছেন যে, লেবাননের যে অংশ তেল আভিভের নিয়ন্ত্রণাধীন সেখান থেকে তারা সরবে না। একইভাবে সিরিয়া এবং গাজার নিয়ন্ত্রণও শিথিল করবে না।
এদিকে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ভারতীয় সময় হিসেবে সোমবার ভোরে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এই সমঝোতার শর্ত হিসেবে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ট্রাম্পের ঘোষণার পরই নিজেদের মতামত ব্যক্ত করে ইজরায়েল।
অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ইজরায়েল সূত্রে দাবি, জি-৭ বৈঠক শেষে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকে বসতে চান তিনি। ফলে পশ্চিম এশিয়ার নতুন কুটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।