পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে তীব্র সংঘাতের জেরে বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজার। সম্পত্তি দালাল ও নির্মাতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে দ্রুতগতিতে সম্পত্তি বিক্রি বাড়ছিল, তা আগামী কয়েক সপ্তাহে কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলির মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতদিন আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় নিরাপদ বিনিয়োগস্থল হিসেবে দুবাইকে দেখা হত। বিশেষ করে রাশিয়া, ইউক্রেন, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের বিনিয়োগকারীরা এই শহরের নির্মাণ ব্যবসায় বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন।
কিন্তু বর্তমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক ক্রেতা আপাতত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে সম্পত্তি লেনদেনের সংখ্যা কমতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই জানিয়েছেন, এখনই সম্পত্তির দামে বড় পতন ঘটবে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুবাইয়ে প্রায় ১৮৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা ছিল একটি নজিরবিহীন রেকর্ড। মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি। বিলাসবহুল আবাসন এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেখা যাচ্ছে। পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা থেকেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে তারা নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংঘাত দ্রুত মিটে যায়, তবে দুবাইয়ের সম্পত্তির বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গিয়ে রিয়েল এস্টেট বাজারে উল্লেখযোগ্য মন্দা দেখা দিতে পারে।