ইজরায়েল-ইরান সংঘাত ২৮তম দিনে, বাড়ছে চাপ—হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ তীব্র

ফেব্রুয়ারির শেষের সামরিক হামলার পর শুরু হওয়া ইজরায়েল-ইরান সংঘাত ২৮তম দিনে পৌঁছে আরও জটিল আকার নিয়েছে। একাধিক দিক থেকে চাপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

ইজরায়েলের সেনাপ্রধান দেশের অভ্যন্তরে চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের ফলে সামরিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর সরাসরি হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বাড়িয়েছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা ইরানের বুশেহর পরমাণু কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চিন্তা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে ইজরায়েলের হাইফা শহর এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলার দাবি করা হয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে, তবুও সংঘাতের তীব্রতা যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।


ইজরায়েল এবং মার্কিন সামরিক দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের রিভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর নৌ বিভাগের প্রধান আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সময়ে পরোক্ষ কূটনৈতিক বার্তা আদানপ্রদানও চলছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী এখন এই সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যাওয়ায়, এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা দুই ক্ষেত্রেই তার গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।