কয়েক ঘণ্টা আগের কথা। শুক্রবার রাতে ইজরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতিকে নস্যাৎ করে দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও ড্রোন হামলা চালাল ইজরায়েল। এই হামলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর। এই হামলার পরে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবাননের সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, শনিবার রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইজরায়েল যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে নাবাতিয়া ও তার আশেপাশের এলাকায় কামানের গোলা ছোঁড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোর পর্যন্ত সেই হামলা চলেছে বলে জানা গিয়েছে। রাতভর নিরন্তর হামলায় একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই সংঘর্ষে ইরান ও ইজরায়েল দু’পক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লেবাননে ইজরায়েলের হামলায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় চারজন ইজরায়েলি সেনার মৃত্যু হয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, লেবাননে হামলা চালানোর বিষয়ে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতপার্থক্য হয়েছে। আমেরিকার সতর্কবার্তার পরেও হামলা থামেনি।
উল্লেখ্য, এর আগে সুইৎজারল্যান্ডের জেনিভায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যেকার শান্তিবৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল। ইজরায়েল যেভাবে শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে লেবাননে হামলা চালাচ্ছে, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই জল্পনাকে উড়িয়ে শুক্রবার রাতে ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহরের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির সমঝোতা হয়। এমনকী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে জেনিভার উদ্দেশে রওনা দেন। অন্যদিকে, বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দেন। ঠিক তারপরেই ইজরায়েল লেবাননে ফের হামলা চালাল।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শান্তি আলোচনায় ইরানের দাবি ছিল, ইজরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ করবে। কিন্তু সেই দাবিকে পাত্তা না দিয়েই লেবাননে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। নতুন করে ফের এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে শুরু করেছে। এমন আবহে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যত নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।