ইরানে হামলা ইজরায়েল ও আমেরিকার, নিহত খামেইনির শীর্ষ কমান্ডার

পশ্চিম এশিয়ায় ফের বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। শনিবার সকালে ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। আর ইরানে সামরিক অভিযানে আমেরিকা সরাসরি যুক্ত রয়েছে বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বক্তৃতায় তিনি ইরানকে ‘জঙ্গিরাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করে জানান, এমন একটি দেশের হাতে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়। তাঁর দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী বিপজ্জনক এবং তাদের কার্যকলাপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

হামলা শুরুর পর ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যার লক্ষ্য ইরানের শাসকগোষ্ঠীর দিক থেকে আসা হুমকি নির্মূল করা এবং মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করেছিল এবং তখনই তেহরানকে সতর্ক করা হয়েছিল যাতে তারা আর পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছিল, কিন্তু ইরান তাতে সাড়া দেয়নি।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলিকে ভয় দেখাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সরাসরি আমেরিকাকেও হুমকি দিতে পারে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস করবে এবং তাদের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলিকে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরির সুযোগ দেবে না।


ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে তারা হামাস এবং হিজবুল্লা-সহ  একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়। ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় ১৯৭৯ সালের তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল ও ৪৪৪ দিন আমেরিকানদের জিম্মি করে রাখার ঘটনাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ১৯৮৩ সালে লেবাননের রাজধানী Beirut-এ মার্কিন মেরিন ঘাঁটিতে হামলার কথাও তোলেন, যেখানে ২৪২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের পর ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। তেহরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয় ইজরায়েলের দিকে, বিশেষ করে তেল আভিভ লক্ষ্য করে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, কাতার ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কাতারের রাজধানী দোহাতেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন বলে ইরানের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজস্কিয়ানকেও লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে ইজরায়েলের তরফে দাবি করা হলেও, তেহরান তা অস্বীকার করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। কাতার ও ইজরায়েলে ভারতীয় দূতাবাস থেকেও নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।