‘আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাব’, জানাল ইসলামাবাদ

পাকিস্তান জানিয়েছে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা কূটনৈতিক আলোচনা ও বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাবে। রবিবার এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি, এবং সে লক্ষ্যেই পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

ইশাক দার আরও দাবি করেন, ইরান ও আমেরিকাকে আলোচনার টেবিলে আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের সংলাপ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠক কেন ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনায় ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও বিপরীত পক্ষের অবস্থান ছিল অনাস্থাজনক, যার ফলে আলোচনা এগোতে পারেনি।


অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দাবি করেন, ইরান আলোচনায় পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি, যার ফলে বৈঠকটি ব্যর্থ হয়েছে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদল আলোচনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তিনি সরাসরি ইরানকে দায়ী করে বলেন, তাদের অনমনীয় অবস্থানের কারণেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা এবং পরমাণু অস্ত্র উন্নয়ন না করার বিষয়ে নিশ্চিত করা। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে “অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করে জানায়, এসব শর্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার পরিপন্থী।

সব মিলিয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দায়ী করায় আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে পাকিস্তান ভবিষ্যতে সংলাপ পুনরায় শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং মধ্যস্থতার ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।