পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের আবহ। সুইৎজারল্যান্ডে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিনের মধ্যেই ফের মুখোমুখি ইরান ও আমেরিকা। হরমুজ় প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দোষারোপের জেরে শুক্রবার ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর কিছুক্ষণের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
মার্কিন সেন্টার কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ এভার লাভলির উপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। আমেরিকার অভিযোগ, ইরান ওই হামলা চালিয়েছিল। আর সেই হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তার জবাব হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের জায়গা, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র এবং সামরিক পরিকাঠামোয় নিখুঁত বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, জাহাজে হামলার জন্য আমেরিকাই দায়ী।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, সমঝোতা চুক্তির শর্ত নিয়ে ইরানের আপত্তি থাকলে আলোচনার পথ খোলা ছিল। কিন্তু হিংসার জবাব হিংসাতেই দেওয়া হবে। হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান বোকার মতো যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে।
মার্কিন হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা আঘাত করে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও কোথায় কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য কোনও পক্ষই প্রকাশ করেনি।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, আলোচনার মধ্যে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প প্রমাণ করে দিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতি রক্ষার কোনও সদিচ্ছাই তাঁর নেই। আজিজির হুঁশিয়ারি, এই হামলার জন্য আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত মূল্য দিতে হবে এবং পিছু হটতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান আগেই জানিয়েছিল, হরমুজে়র নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক শক্তিগুলির হাতেই থাকা উচিত। অন্যদিকে, আমেরিকা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ঘোষণা করেছে, এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজের উপর ইরান কোনও টোল বসাতে পারবে না। এর তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরার সম্ভাবনা ফের বড় ধাক্কার মুখে।