মার্কিন–ইজরায়েল যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে সামনে এসেছে তাঁর ছোট ছেলে মোজতবা হোসেনি খামেনির নাম। যদিও ইরান সরকারের তরফে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি, তবু দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে তাঁকেই সম্ভাব্য নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসরে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তবে শিয়া ধর্মীয় পরম্পরায় পিতা থেকে পুত্রের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তর খুব সাধারণ ঘটনা নয়। শোনা যায়, খামেনেই নিজে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের যে তালিকা তৈরি করেছিলেন, সেখানে ছেলের নাম ছিল না। তবুও বিভিন্ন মহলের দাবি, প্রভাবশালী সংস্থা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস এবং ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের সমর্থনেই মোজতবার নাম সামনে এসেছে।
মোজতবার সম্পত্তি নিয়েও দীর্ঘদিন বিতর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর বিপুল সম্পদ ও বিনিয়োগ রয়েছে। সুইস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লন্ডনের বিলাসবহুল সম্পত্তি— সবই আলোচনার বিষয়। এমনও দাবি উঠেছে, সম্পদের নিরিখে তিনি খামেনেই পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ছাপিয়ে গেছেন। যদিও এসব তথ্যের সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদেশে থাকা মোজতবার বিপুল সম্পত্তির কথা উল্লেখ করে একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’। সেখানে বলা হয়েছে, লন্ডনে বিত্তশালীদের এলাকা হিসাবে পরিচিত বিখ্যাত ‘বিলিয়নেয়ার্স রো’-তে খামেনি-পুত্রের একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি আছে। অধিকাংশই অবশ্য বেনামে কিনে রেখেছেন তিনি। কেবলমাত্র একটি বাড়িই নাকি আছে তাঁর নিজের নামে।
ব্লুমবার্গ আবার দাবি করেছে, ‘দ্য বিশপ্স অ্যাভিনিউ’তে বেশ কিছু ভুয়ো সংস্থা খুলে রেখেছেন খামেনিপুত্র। এর আড়ালে তেহরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই হয়ে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট পর্যন্ত চলছে অর্থ পাচার। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সেই লেনদেনে নাকি সরাসরি জড়িত আছেন মোজতবা।
ব্যক্তিগত জীবনে মোজতবা বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল ইরানের প্রাক্তন পার্লামেন্ট স্পিকার গোলাম আলি হাদ্দাদ-আদেল-এর মেয়ে। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়, যদিও পরিবারের বিষয়ে খুব কম তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
মোজতবা কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পর্দার আড়াল থেকে রাজনীতি ও সামরিক মহলে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর দেশের নেতৃত্বে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই তাঁর উত্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নিয়োগ নিয়ে জল্পনাই প্রধান ভিত্তি।