পশ্চিম এশিয়া জুড়ে চলা সংঘাত ক্রমশই তীব্রতর হচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানের এক অভিনব পদক্ষেপ। ইজরায়েলের দিকে ছোঁড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রে বিভিন্ন দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা লেখা হয়েছে। তার মধ্যে একটি বার্তায় ভারতের উদ্দেশে লেখা ছিল, ‘ভারতের জনগণকে ধন্যবাদ’। মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনসুলেট জেনারেল সমাজমাধ্যমে এই বার্তাগুলি পোস্ট করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে এই হামলার আগে ও হামলা শুরুর সময়ের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ইরানের বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে ধন্যবাদসূচক বার্তা লিখছেন। এরপর সেই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে ছোঁড়া হচ্ছে। তবে এই ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। ভারত ছাড়াও স্পেন, পাকিস্তান ও জার্মানির মানুষের প্রতিও একইভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, শুক্রবার তারা হামলার ৮৩তম পর্যায় সম্পন্ন করেছে। এই হামলায় মধ্যম ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইজরায়েলের বিভিন্ন কেন্দ্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি।
ইরানের বিভিন্ন সংস্থার দাবি অনুযায়ী, বাহরিনে থাকা মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রও এই হামলার শিকার হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালায়। সেই ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পাল্টা হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে ইরান। এখনও পর্যন্ত এই সংঘাত থামার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।
তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরান কিছুটা কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তারা জানিয়েছে, ‘বন্ধু’ দেশগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ভারত-সহ কয়েকটি দেশের নামও উল্লেখ করেছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই অবস্থান কিছুটা নমনীয় মনোভাবের ইঙ্গিতবাহী।
এদিকে এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। জম্মু ও কাশ্মীরের শিয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ইরানের প্রতি সংহতির মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।