আন্তর্জাতিক অস্ত্রপাচার চক্রে জড়িত ইরানি বংশোদ্ভূত মহিলা

আন্তর্জাতিক অস্ত্রপাচার ও নিষিদ্ধ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগে ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন বাসিন্দা শামিম মাফকে গ্রেপ্তার করল মার্কিন পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোয়েন্দা মহলে। তদন্তকারীদের দাবি, বহুদিন ধরেই তিনি আন্তর্জাতিক অস্ত্রচক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন দেশে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শামিম দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ, ইরান সরকারের হয়ে কাজ করে তিনি একাধিক দেশের সঙ্গে অস্ত্রচুক্তিতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়েছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘাতক ড্রোন, গ্রেনেড এবং ছোট অস্ত্র পাচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি।

তদন্তকারীদের আরও দাবি, ওমানের একটি সংস্থা ‘অ্যাটলাস ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস’-কে সামনে রেখে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হত। প্রায় ৭ কোটি ডলারের অস্ত্রচুক্তি পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে শামিমের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ইরানের তৈরি উন্নত মানের সামরিক ড্রোন ‘মোহাজের-৬’ সরবরাহের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


এছাড়াও ২০২৩ সাল থেকে সুদানের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে প্রায় ৫৫ হাজার বোমার ফিউজ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে এই ধরনের অস্ত্র সরবরাহ সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শামিমের সঙ্গে ইরানের গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সরাসরি যোগাযোগের ডিজিটাল প্রমাণ মিলেছে। তাঁর মোবাইল ফোন ও অনলাইন যোগাযোগ খতিয়ে দেখে আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রপাচারের যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তবে আদালতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শামিম মাফ। তাঁর দাবি, ইরান সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ২০২০ সালে ইরান সরকার তাঁর পারিবারিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল, ফলে সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তিক্ত।

প্রসঙ্গত, শামিম ২০১৩ সালে ইরান ছেড়ে চলে যান এবং ২০১৬ সাল থেকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ, পরবর্তীকালে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে আমেরিকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তাব দেয়, যার অর্থায়ন ইরান সরকারের তরফে হওয়ার কথা ছিল।

এই আন্তর্জাতিক অস্ত্রপাচার চক্রে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত জোরদার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।