অর্থনৈতিক অবরোধ আরও জোরদার হলে আমেরিকার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল ইরান। দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ চলতে থাকলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান।’ সেই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ফের সংঘাত শুরু হলে নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে পাঠাবে’ ইরান।
ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখার অর্থ আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাওয়া।’ তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়ে নৌ অবরোধ অতিক্রম করে ইরান প্রায় ৭-৮ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। ভবিষ্যতে অবরোধ জারি থাকলে আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত ‘১০০ শতাংশ শক্তিতে’ আঘাত হানা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
লেবানন নিয়েও ইজরায়েলকে সতর্ক করেছেন রেজাই। তাঁর কথায়, দাহিয়েহ ও বেইরুট ইরানের ‘রেড লাইন’। লেবাননে দখল করা এলাকা থেকে ইজরায়েলকে সরে যেতে হবে। ফের যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি আগের সংঘাতের থেকেও গুরুতর বা অন্যরকম হতে পারে। ইরান তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তেহরানের সঙ্গে তাদের কোনও আলোচনা চলছে না। হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালানো হয়েছে। এবার অর্থনীতির উপর চাপ বাড়াতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চলছে। এরই অংশ হিসেবে ২৪ আগস্ট ইরানের সামরিক কার্যকলাপ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড়ের নেটওয়ার্ক এবং তেল ও পেট্রো-রাসায়নিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৬০টি সংস্থা, ব্যক্তি ও জাহাজের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা।
আরও পড়ুন: চুল ধরে টেনে মৃতদেহ থেকে খোলা হচ্ছে কানের দুল, নেপালে ভয়াবহ চিত্র, গ্রেপ্তার ২
মার্কিন পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন নেতানিয়াহুও। এক্স-এ পোস্ট করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ইরানের ‘স্বৈরাচারী শাসন’ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক কার্যকলাপের উপর চাপ বাড়িয়ে তাদের ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছে।