ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা, আমেরিকা-ইজরায়েলকে পাল্টা হুঁশিয়ারি

বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান। রবিবার সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলি পরিকল্পিতভাবে ইরানের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই অভিযোগ করে বলেন, ইসফাহান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনওভাবেই ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ ঘিরে উদ্বেগের ফল নয়, বরং বৃহত্তর আগ্রাসনের অংশ। তাঁর কথায়, গত ৩০ দিনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলিকে তিনি একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যার লক্ষ্য ইরানের জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি এবং গবেষণার পরিকাঠামোকে ভেঙে দেওয়া।

এই প্রেক্ষাপটে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।


রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক হামলাকে ‘বারবার আক্রমণের’ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এমনকি, ওই বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আশপাশে বসবাসকারী মানুষ ও ছাত্র-শিক্ষকদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রের মতো অসামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।
পাল্টা হুমকি ও অভিযোগ–প্রতিআভিযোগের জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।