‘আমরা তেল বিক্রি না করতে পারলে কেউ পারবে না’, অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে হুমকি ইরানের

Photo: Magnific

ফের কড়া বার্তা দিল ইরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তেহরানকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়া হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনও দেশও তা করতে পারবে না। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করেছে ইরান। তেহরানের এই সতর্কবার্তা জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনার ইঙ্গিতবাহী।

বুধবার ইরানের সংসদের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের গালিবফ বলেন, বর্তমান যুদ্ধ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে ‘হয় সব, নয় কিছুই না। যেখানে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কোনও দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তাও থাকবে না।’

এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া বার্তায় গালিবফ আরও দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নির্ভর করছে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার উপর। তাঁর মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিস্থিতি ছিল, হরমুজ আর কখনওই সেই অবস্থায় ফিরবে না।


তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ আরও জোরালো হয়েছে। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, টানা ১২ দিনের রাতেও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করার ক্ষমতা কমাতেই এই অভিযান। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌ-পথ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টাও চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যদি কোনও জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, তাহলে আমেরিকা পাল্টা ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তাঁর কথায়, ‘প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি মেনেই এগোবে। তাঁর দাবি, ইরানের পরিকাঠামোর উপর যে কোনও হামলার জবাব হবে কঠোর ও চূড়ান্ত পর্যায়ের।

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের আহভাজ, রামশির, আন্দিমেশক-সহ একাধিক এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ইরাক সীমান্তের কাছে শালামচেহ এলাকায় হামলায় ২ জনের মৃত্যুর খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী খরাপীড়িত উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি পরিকাঠামো এবং পানীয় জল সরবরাহকারী লবণাক্ত জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনে সাধারণত এই ধরনের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানীয় জলের প্রকল্প, হাসপাতাল, তেল পরিশোধনাগারের মতো অসামরিক পরিকাঠামোতে হামলা করা নিষিদ্ধ। তবে একটি ব্যতিক্রম আছে। যদি ওই পরিকাঠামো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। এরই মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরিনে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় আক্রমণেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা ঠেকাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।