ট্রাম্প-খামেনি বৈঠকের সম্ভাবনা নস্যাৎ ইরানের

যুদ্ধবিরতি চলছে। শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের জোর চর্চা চলছে। এমন সময় ট্রাম্প ও খামেনির মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা কার্যত নস্যাৎ করল তেহরান। সেইসঙ্গে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তিচুক্তির পথে এগোতে হলে আগে আমেরিকাকে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ প্রমাণ করতে হবে।

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়েই এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় বসা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সেই অচলাবস্থা কাটানোর দায়িত্ব মূলত ওয়াশিংটনের।’ তাঁর দাবি, আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রায় ২৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে রেখেছে। সেই অর্থের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় যাওয়া সম্ভব নয়।

রেজায়েইর কথায়, ‘ট্রাম্প যদি সত্যিই সমঝোতা চান, তাহলে প্রথমে তাঁকে বিশ্বাসের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। ইরানের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়াই সেই পরীক্ষা। ওই অর্থ আমাদের, আমেরিকার নয়।’ তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপই দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেইসঙ্গে আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে অচলাবস্থা দূর করতে পারে।


সূত্রের খবর, তেহরান প্রথম ধাপে অন্তত ১২০০ কোটি ডলার অর্থমূল্যের সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরান ধাপে ধাপে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। কিন্তু এই শর্তে এখনও রাজি হয়নি ওয়াশিংটন। ফলে শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘও কাটছে না।

বিশ্লেষকদের মতে,  তেহরান আপাতত কূটনৈতিক পদক্ষেপের চেয়ে বাস্তব অর্থনৈতিক ছাড়কে যে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তা ইরানের এই অবস্থানেই স্পষ্ট।