পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহে বড় স্বস্তি পেল ভারত। ইরান ঘোষণা করেছে, ‘বন্ধু’ দেশগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি রয়েছে রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান ও ইরাক। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এই বার্তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে মুম্বাইয়ে ইরানের উপদূতাবাস। ইরানের সরকারি টেলিভিশনেও আরাঘচির এক সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। যেসব দেশের সঙ্গে তেহরানের সুসম্পর্ক রয়েছে, তাদের জাহাজকে নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারত-সহ একাধিক দেশের জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে এক্স পোস্টে মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় জানায়, ‘আমরা চিন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক, এবং পাকিস্তান-সহ বন্ধুমনোভাবাপন্ন দেশগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলালচলের অনুমতি দিয়েছি।’ এক সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, আরাঘচি বলেছেন, ‘বিনা বাধায় ও নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এই দেশগুলির মধ্যে কয়েকটি দেশকে আমরা বন্ধু বলে মনে করি। সে ক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেই জাহাজগুলিকে নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কয়েক দিন আগে দু’টি জাহাজ এই পথ দিয়ে গিয়েছে। আরও কিছু যাবে বলে আমি মনে করি, সম্ভবত বাংলাদেশেরও।’ তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আমেরিকা, ইজরায়েল-সহ কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য এই পথ বন্ধই থাকবে। ইরানের বক্তব্য, শত্রু দেশগুলিকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। গোটা বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম প্রধান এই জলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য আলাদা ছাড়পত্রকে কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এস জয়শংকর এবং নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বৈঠক ও কথোপকথনের পরই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তবে এক্ষেত্রেও শর্ত বেঁধে দিয়েছে ইরান। যেসব জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করবে, তাদের আগাম সমন্বয় রাখতে হবে এবং ইরানের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরান জানিয়েছিল, আমেরিকা ও ইজরায়েল ছাড়া বাকি দেশগুলির জাহাজ চলাচলে কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। ইরানের তরফে রাষ্ট্রসঙ্ঘে জানানো হয়, যে সব জাহাজকে ইরান নিজের শত্রু বলে মনে করবে না, তারাই হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীর উপর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।