ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দেশের প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিষদ ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বড় অংশে ঐকমত্যে পৌঁছে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও বেশ কিছু বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। এর মধ্যেই ইরানকে নতুন করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল ইজরায়েল। তেল আভিভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যিনিই আয়াতোল্লা আলি খামেনির উত্তরসূরি হবেন, তাকেই লক্ষ্য করে আঘাত হানতে পারে ইজরায়েলি বাহিনী।
জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব রয়েছে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নামে পরিচিত এক গুরুত্বপূর্ণ পরিষদের উপর। এই পরিষদের সদস্যরাই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করেন। রবিবার ওই পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পরিষদের অধিকাংশ সদস্যই সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে একমত হয়েছেন। তবে কাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বা কাদের নাম বিবেচনায় রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম গোপন রাখা হচ্ছে। ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামরিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সিদ্ধান্তে তাঁরই শেষ কথা থাকে। ফলে নতুন নেতাকে ঘিরে গোটা পশ্চিম এশিয়ার নজর এখন তেহরানের দিকে।
এই বৈঠক চলাকালীনই তেহরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী ফার্সি ভাষায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হওয়ার চেষ্টা যিনি করবেন, তাকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার এমন কড়া সতর্কবার্তা দিল তেল আভিভ।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ। ওই পরিষদে রয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার হাতে যে বিস্তৃত ক্ষমতা ছিল, আপাতত সেই ক্ষমতাই এই অন্তর্বর্তী পরিষদের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনির নাম নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। যদিও সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই তেহরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিল ইজরায়েল। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ‘ইরানের পরবর্তী ধর্মীয় নেতা যিনিই হোন, কিংবা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।’ সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই গোটা পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার আমেরিকাকেও কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানি জানিয়েছেন, ‘খামেনি হত্যার মূল্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একদিন না একদিন চোকাতেই হবে।’ ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হন, তা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।