যুদ্ধে যোগদানের বয়স কমিয়ে ১২ করল ইরান

ইরানে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ইসলামিক রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে ১২ বছর বয়স হলেই শিশুদের যুদ্ধের কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। আগে এই বয়সসীমা ছিল ১৮ বছর। অর্থাৎ এক ধাপে ৬ বছর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তেহরানে আইআরজিসির এক আধিকারিক রহিম নাদালি জানিয়েছেন, ‘ফর ইরান’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। দেশের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

​অন্যদিকে, আমেরিকার সেনাবাহিনী সরাসরি হামলা চালাতে পারে— এই আশঙ্কা থেকে দ্রুত সেনা সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে ইরানে। শুধু সংখ্যার নিরিখেই নয়, বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধিতেও নতুন করে বিপুল সংখ্যক তরুণকে বাহিনীতে নিয়োগ করা হচ্ছে। অনেকে আবার স্বেচ্ছায় যোগ দিচ্ছেন। সেনা সূত্রের উল্লেখ করে এমনটাই দাবি করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। বলা হয়েছে, ১০ লক্ষেরও বেশি তরুণ যোদ্ধা নিয়োগ করা হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আগ্রহও বাড়ছে। সেনাবাহিনীর নিয়োগ কেন্দ্রগুলিতে প্রতিদিনই ভিড় দেখা যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।


জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে এই শিশুদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও তারা চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে গাড়ি তল্লাশি করছে, আবার কোথাও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশির দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশুদের এমন বিপজ্জনক কাজে ব্যবহার করা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল কড়া সমালোচনা করছে। শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা বলছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ বিরোধী। কারণ, শিশুদের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ইরানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই নিয়ে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, এর আগেও ইরান দেশে অশান্তি বা বিদ্রোহ দমনে শিশুদের ব্যবহার করেছে। তাই এই নতুন সিদ্ধান্ত আরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইরান শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিরও অংশ। সেই অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে কাউকে যুদ্ধের কাজে বাধ্য করা যায় না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ইরান কীভাবে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।

তবে সমালোচনার মুখে ইরানের তরফে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সীরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না। তারা সহায়ক কাজ করবে। এছাড়া, এটি বাধ্যতামূলক নয় বলেও দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিবারের অনুমতি থাকলে তবেই শিশুদের এই কাজে যুক্ত করা হবে।

তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার করা হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।