খামেনির উত্তরাধিকার নিয়োগের খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো, স্পষ্ট করল ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি নিয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করল ইরান সরকার। তেহরান জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনও গ্রহণ করা হয়নি। কিছু বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং শীঘ্রই তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ইরান সরকার এই প্রতিবেদনগুলিকে সম্পূর্ণ “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর ওপর। তাঁদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে যে প্রতিবেদনগুলি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলির “কোনও স্বীকৃত ভিত্তি বা সরকারি উৎস নেই” বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে ওই ধর্মীয় পরিষদই নতুন নেতা নির্বাচন করে। বর্তমানে দেশজুড়ে শোকপর্ব এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সময় নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।


প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতোল্লা আলি খামেনির সম্প্রতি সামরিক হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তরাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে আলোচনা শুরু হলেও, তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট। সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনও খবরকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে ইরান সরকার গুজব ও জল্পনা এড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। এদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও নজর রয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে, যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। তার আগে কোনও অনুমানই ভিত্তিহীন।