আবারও শিরোনামে হরমুজ প্রণালী। ইরান একটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ফিরে আসতে বাধ্য করেছে। ইরানের সেনাবাহিনী এই ভারতীয় ট্যাঙ্কারটিকে হরমুজ প্রণালী পার হতে দেয়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে ভারতগামী একটি ট্যাঙ্কারের ওপর হামলাও হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বাহরিন ও কুয়েতে হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ওমান করিডোর দিয়ে পার হওয়ার সময় একটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। ট্যাঙ্কারটি হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু ইরানের সেনাবাহিনী আপত্তি জানায়। এরপর সেটিকে ফিরে যেতে বলা হয়।
২৪ জুন ওমান এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা ওমানের উপকূলের কাছে একটি সাময়িক নৌ-করিডোর ঘোষণা করে। উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই করিডোর ব্যবহার করা হবে এবং এর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। ফার্স জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে ওমান করিডোর ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করে দেয়। আইআরজিসি জাহাজগুলোকে ইরান নির্ধারিত করিডোর ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়। ফার্সের দাবি, বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজই ইরান অনুমোদিত করিডোর ব্যবহার করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে ভারতে আসার পথে একটি জাহাজের ওপর হামলা হয়। সূত্রের দাবি, কাতার থেকে গুজরাটগামী জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজে মোট ২৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে চারজন ভারতীয়। সব ক্রু সদস্যই নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়।
এদিকে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হওয়া সৌদি আরবের ট্যাঙ্কারের ক্রুরাও নিরাপদে রয়েছেন। সৌদি আরবের ন্যাশনাল শিপিং কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্গো নিরাপদে রয়েছে এবং জাহাজটি চলাচলের উপযুক্ত অবস্থায় আছে।
এই বিবৃতিটি বুধবার দেওয়া হয়, যখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘ওয়াডিয়ান’ এবং আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ— এম/টি আল রেকায়াত ও এম/টি সাইপ্রাস প্রসপেরিটি—এর ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। সেন্টকম জানায়, মার্কিন সেনাবাহিনী নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ব্যবহার করে ৮০টিরও বেশি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা। হামলায় ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস নেভির ৬০টিরও বেশি দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌকা ধ্বংস হয়েছে বলে সেন্টকম দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া। এরপর ইরান বুধবার কুয়েত ও বাহরিনেও হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি “শেষ” হয়ে গেছে। তিনি ইরানের নেতাদের “মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ” বলে মন্তব্য করেন। বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। তারা খারাপ মানুষ।”
তিনি আরও বলেন, “তারা খারাপ এবং মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ। তাদের নেতৃত্বও একই ধরনের অসুস্থ মানসিকতার লোকদের হাতে পরিচালিত হয়। তারা নিষ্ঠুর ও হিংস্র। আর যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে তারা অবশ্যই তা ব্যবহার করত।”