Explainer: হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজকে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ইরান, নেপথ্যে কি ওষুধের ব্যবসা আর নয়া কূটনীতি?

Iran has exempted Indian vessels from restrictions on straight of Harmuz (Image: X/@IndiaObserver23)

হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ঘনীভূত উত্তেজনার মধ্যেই ভারতীয় জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বড়সড় ছাড়ের কথা ঘোষণা করল ইরান (Iran)। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতিতে যখন একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে, ঠিক সেই সময়ে ইরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। ইরানের এক প্রবীণ আইনপ্রণেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির যাতায়াতে কোনওরকম বিধিনিষেধ থাকছে না। মূল কারণ হিসেবে ভারত থেকে জরুরি ওষুধ আমদানির (Medicine Imports) বিষয়টিকে তুলে ধরা হলেও, এর নেপথ্যে গভীর ভূ-রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হরমুজ প্রণালী ও ইরানের বিতর্কিত ছাড়

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি বিষয়ক কমিটির (National Security and Foreign Policy Committee) ভাইস চেয়ারম্যান আহমাদ হায়াত মোগাদ্দাম এই বিশেষ ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারত ছাড়াও চিন, ইরাক এবং কাতারকে এই কৌশলগত জলপথ (Strategic Waterway) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই চারটি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলি বিনা বাধায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকানদেরও এই দেশগুলির জাহাজ চলাচলে কোনও আপত্তি নেই বলে দাবি করেছেন ওই ইরানি আধিকারিক।


কেন এই বিশেষ সুবিধা পেল ভারত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুটটি পরিচালিত হয়। ইরান জানিয়েছে, মূলত ভারত থেকে জীবনদায়ী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানি সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কারণও জড়িয়ে রয়েছে। হায়াত মোগাদ্দাম প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তাঁরা আদতে ব্যবসা করছেন এবং ভারতীয় ও চিনা জাহাজগুলি থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থও সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, চিনকে এই সুবিধা দেওয়ার মূল লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক আঙিনায় বেজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন (Political Support) সুনিশ্চিত করা।

ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও উদ্বেগ

ইরানের এই ছাড়পত্র এমন একটা সময়ে এল, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে (Gulf Region) কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলায় বহু ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় ভারতীয় পতাকাবাহী এমএসভি আল জুসুফি (MSV Al Jusufi) ওমান উপকূলের কাছে হামলার শিকার হয়। ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী ১৩ জনকে উদ্ধার করলেও গুজরাতের এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এই ধরনের লাগাতার হামলার ফলে সমুদ্রপথে বাণিজ্য বর্তমানে আতঙ্কের রূপ নিয়েছে।

ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান

নয়াদিল্লি এই সমস্ত হামলার তীব্র নিন্দা করেছে এবং অবিলম্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ডাক দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন (International Law) মেনে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও বাধাহীন নৌ চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ভারত সরকার। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং (Directorate General of Shipping) হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলে চার হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতারের মধ্যস্থতায় একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টাও চলছে, যদিও ইরানের সেনা আধিকারিকরা এই ব্যাপারে এখনও সন্দিহান।