ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনিকে চোখের জলে বিদায় জানাল গোটা দেশ। শুক্রবার শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফকে প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছোয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-সহ সে দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভারত থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল তথা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনালের সৈয়দ আতা হাসনাইন গিয়েছিলেন।
ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে সমাজমাধ্যমে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করেছে। সেখানে ভারতের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির শ্রদ্ধা নিবেদনের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এবং কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ।
ইরানের সংবাদসংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের গর্ভনর জানিয়েছেন, শোকযাত্রাকে ঘিরে তেহরানে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে প্রার্থনাস্থল সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আগামী সোমবার পর্যন্ত মানুষ সেখানে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাগদাদ শহর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রাশিয়া, ইরাক, আর্মেনিয়া, তুর্কমেনিস্তান-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ, ওমান, উজবেকিস্তান, আজারবাইজান, বেলারুস, কিরঘিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার, নিকারাগুয়া ও কঙ্গোর বিদেশমন্ত্রী এবং মিশরের সেনেটের প্রেসিডেন্টও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তুরস্ক, সৌদি আরব-সহ আরও কয়েকটি দেশে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে, এমন দেশকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ইরানের প্রশাসনের অনুমান, প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে দেড় থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষের জড়ো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই প্রার্খনাস্থল এবং আশেপাশে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবসথা করা হয়েচে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে আয়াতোল্লা আলী খামেনিকে সমাহিত করা হবে।