হরমুজ প্রণালী নিয়ে সমঝোতার পথে ইরান-ওমান, যুদ্ধের আবহে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ

Photo: Statesman

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে ইরান ও ওমান। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিপিং ম্যাপ বা জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট রুট চূড়ান্ত করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই শিপিং ম্যাপ বৃহত্তর একটি চুক্তির অংশ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দুই দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা ওবং নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে।

তবে জাহাজগুলির কাছ থেকে কোনও ধরনের ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে কি না, কিংবা নিরাপত্তার দায়িত্ব কীভাবে ভাগ করা হবে, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে পরবর্তী ধাপে আরও আলোচনা হবে।


হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই উদ্যোগ এমন সময়ে এল, যখন যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে একের পর এক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হত। ফলে হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলেছে।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট পর্যন্ত সংঘর্ষ চলাকালীন হরমুজ প্রণালী ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে জাহাজকে লক্ষ্য করে ৬৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৭ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তারপরেও হামলা থাকেনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলা চালানো হয়। শুক্রবার সন্ধ্যাতেও আরও একটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়।

ইরান ও ওমানের এই সম্ভাব্য সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে ওয়াশিংটন এমন কোনও বিষয় সম্মতি দেবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর ফলে শিপিং ম্যাপ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা ফিরবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীকে শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের একটি পুলিশ অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে ট্রাম্প এ কথা ঘোষণা করেছিলেন। ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শীঘ্রই আমি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা জবাব ইরানের

যদিও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি বলেন, ‘টুইট করে, বিমানবাহিনী রণতরী পাঠিয়ে, নির্দেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দখল করা যাবে না। ইরান কোনও হুমকিতে ভয় পায় না। হরমুজ ইরানের ছিল, আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’