ফের অগ্ন্যুৎপাতে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশের ডুকোনো আগ্নেয়গিরি। রবিবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আগ্নেয়গিরি থেকে ধূসর রঙের ছাই প্রায় ৫ হাজার মিটার উঁচু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয় মোকাবিলা কেন্দ্র।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ হাজার ৮৭ মিটার উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরিকে বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রাখা হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের জেরে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের আগ্নেয়গিরির গহ্বরের চার কিলোমিটারের মধ্যে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগ্নেয়গিরির ছাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই কারণে স্থানীয় মানুষকে মুখোশ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতেও ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। সেই ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়। পরে ১৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে সাত জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং আট জন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা ছিলেন।
তখন আগ্নেয়গিরি থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয় পদার্থ বেরিয়ে আসায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। মৃতদেহগুলি আগ্নেয় পদার্থের নীচে চাপা পড়ে থাকায় উদ্ধার অভিযান দেরিতে শুরু করতে হয়। পরে দেহগুলি শনাক্তকরণের জন্য টোবেলো আঞ্চলিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল থেকেই ডুকোনো আগ্নেয়গিরির ট্রেকিং পথ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগেও ফেব্রুয়ারি মাসে ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। তখন আকাশে প্রায় ২ হাজার মিটার উঁচু পর্যন্ত ছাইয়ের স্তম্ভ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আগ্নেয়গিরির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও বিমান চলাচল করতে পারবে না। কারণ বাতাসে ভেসে থাকা আগ্নেয় ছাই বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।