রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের সংঘাত দেখা গেল।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Pakistan) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ সিন্ধু নদের জল বন্ধ বা ঘুরিয়ে দেওয়ার যে কোনও চেষ্টা যুদ্ধের সামিল হিসেবে বিবেচিত হবে। এরা পাল্টা জবাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে (UN) ভারত সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের (Pakistan) সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে ইসলামাবাদকে কড়া আক্রমণ করে।
নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘে (UN) সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় শরিফ ভারতের (India) সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য জল বন্ধ বা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার যে কোনও চেষ্টা ‘যুদ্ধের কাজ’ হিসেবে দেখা হবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাম জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে সিন্ধু চুক্তি মানা হবে না।
শরিফ তাঁর ভাষণে পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের একাধিকবার প্রশংসা করেন। এর জবাবেই রাষ্ট্রসঙ্ঘে (UN) ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘তাদের পুতুলরা আসবে-যাবে, কিন্তু আসল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়’ পাকিস্তানকে (Pakistan)তিনি ‘সেনাবাহিনীর, সেনাবাহিনী দ্বারা এবং সেনাবাহিনীর জন্য পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা’ বলেও মন্তব্য করেন।
সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ তুলে গেহলট ৯/১১ হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেনের পাকিস্তানের (Pakistan) অ্যাবোটাবাদে থাকার কথা উল্লেখ করেন। ২০১১ সালে মার্কিন বাহিনী অ্যাবোটাবাদে অভিযান চালিয়ে লাদেনকে হত্যা করেছিল। গেহলট বলেন, ‘দিনের বেলায় তারা নিরাপত্তা রক্ষার দাবি করে, অথচ রাতে সন্ত্রাস চালায়’ ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়ে দেন গেহলট।
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা দেখিয়েছি, সন্ত্রাসবাদীদের পালানোর বা লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা দেওয়া হবে না।’ এর পরই ইসলামাবাদকে সরাসরি সতর্ক করে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি ভুগতে হবে।’
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারত-চিনকে জলবায়ু বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর
শাহবাজ শরিফ তাঁর ভাষণে কাশ্মীর প্রসঙ্গও তোলেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) তত্ত্বাবধানে গণভোটের দাবি জানিয়ে তিনি কাশ্মীরকে পাকিস্তানের (Pakistan) ‘জুগুলার ভেন’ বা ‘হৃদপিণ্ডের শিরা’ বলে উল্লেখ করেন।
এর পাল্টা জবাবে গেহলট বলেন, ‘ভারতীয় ইউনিয়নের জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আমার দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তা চিরকালই থাকবে’ একই সঙ্গে পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে হিংসা এবং অধিকার হরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োচিত হস্তক্ষেপ’-এর প্রশংসাও করেন শরিফ (Pakistan) । তবে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে সামরিক সংঘর্ষ বন্ধের সিদ্ধান্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই হয়েছিল। তৃতীয় কোনও পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি নয়াদিল্লি প্রত্যাখ্যান করেছে।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে শরিফের মন্তব্যেরও জবাব দেয় ভারত।গেহলট বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে এমন এক শাসনব্যবস্থার কাছ থেকে আমরা ভণ্ডামিপূর্ণ নীতিকথা শুনলাম, যে দেশের রাজধানী এই মুহূর্তে নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা।’
ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে শরিফের অভিযোগের জবাবে তিনি পাকিস্তানের (Pakistan) ধর্মনিন্দা আইন এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের কী ভাবে দেখা হয়, তা গোটা বিশ্ব জানে। কিছু পবিত্র নীতিকথা বলে সেই সত্যকে আড়াল করা যাবে না।’
শেষে রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) মঞ্চকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের বারবার ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার সমালোচনা করেন গেহলট। তাঁর কথায়, ‘বছরের পর বছর একই মিথ্যা পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না।’
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/eVV6EnYyYw0?si=BkO3VkDHl757FMJe” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>