ফ্রান্সের এভিয়ানে শুরু হয়েছে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নিতে সেখানে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় সময় হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে মোদী সেখানে পৌঁছন। সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক আগে যখন রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজেদের আসন গ্রহণ করছিলেন সেইসময় ট্রাম্পের মুখোমুখি হন মোদী। একে অপরের সঙ্গে হাতও মেলান। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণ শুধু কূটনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অবশেষে মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ১৬ মাস পর এই প্রথম সরাসরি দেখা হল দুই নেতার। শেষবার তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে, ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে। এরপর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে— অপারেশন সিঁদুর, শুল্কনীতি, ইরান-সঙ্কট থোকে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা। পাশাপাশি, ওমানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে ওঠে। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে মোদী-ট্রাম্প বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। প্রায় ১ বছর ৪ মাস পর এই প্রথম সরাসরি বৈঠকে বসার অপেক্ষায় রয়েছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
এবারের সম্মেলনে ‘নতুন অংশীদারিত্ব গঠন এবং আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্গঠন’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর। সেখানে জি-৭ দেশগুলির পাশাপাশি বিশ্বব্যাঙ্ক, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন অংশীদার দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত হয়েছেন। ভারতের তরফে উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ, বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সংক্রান্ত নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করার কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের দিকে। ট্রাম্পের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, শুল্কনীতি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে মোদী-ট্রাম্প বৈঠক থেকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিষয়ে নতুন বার্তা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে শিল্প ও বাণিজ্য মহল।
জি-৭ সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ইরান-আমেরিকা সমঝোতা চুক্তি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা এখন পরবর্তী ধাপে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সমঝোতা সফল হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই চুক্তি আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ এবং জ্বালানির দামের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্ব বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অর্থাত পণ্য প্রস্তুত থেকে শুরু করে ক্রেতার হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সম্মেলনের সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজার, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে। বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করছে দিল্লি।