মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ-য় ধর্মীয় বিদ্বেষের জেরে নৃশংস হামলার শিকার হলেন এক ভারতীয় যুবক। শপিং মলের সামনে প্রকাশ্যে তাঁকে অন্তত ১৫ বার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর আমেরিকায় ভারতীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার শপিং মলে। সেখানে একটি কিয়স্কে ভারতীয় যুবক সোহেল কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার পিটার মাইকেল লারসেন নামে এক ব্যক্তি সোহেলের কাছে এসে প্রথমে তাঁর নাম এবং তিনি কোন দেশ থেকে এসেছেন তা জানতে চান। সোহেল নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দেন। এরপর লারসেন জানতে চান, তিনি মুসলিম কি না। সোহেল ‘হ্যাঁ’ বলে জবাব দেওয়ার পরই অভিযুক্ত আচমকা ছুরি বের করে তাঁর ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোহেলের শরীরে অন্তত ১৫ বার ছুরির কোপ মারা হয়। হামলার সময় উপস্থিত কয়েকজন দ্রুত এগিয়ে এসে লারসেনকে ধরে ফেলেন। তাঁকে মাটিতে চেপে ধরে তাঁর হাত থেকে ছুরি কেড়ে নেন। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জেরায় লারসেন স্বীকার করেছেন যে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই সোহেলকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা-সহ বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে সল্ট লেক কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত সোহেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর হাত, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে গুরুতর আঘাত লেগেছে। একাধিক অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন। তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগাতে বন্ধুদের উদ্যোগে একটি ‘গোফান্ডমি’ তহবিলও খোলা হয়েছে।
ঘটনার সময় পাশের একটি গয়নার দোকানে কর্মরত লুনা নুনেজ জানান, হামলাকারী প্রথমে খুব স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন। কিন্তু ধর্মের কথা জানার পরই তিনি আচমকা ছুরি নিয়ে সোহেলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সোহেলের ম্যানেজার আদনান মহম্মদ এই ঘটনাকে ঘৃণ্য বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সমাজে এই ধরনের ঘৃণার কোনও জায়গা নেই। তিনি জানান, সোহেল অত্যন্ত পরিশ্রমী ও হাসিখুশি স্বভাবের মানুষ।
মলের অন্য কর্মীদের দাবি, হামলার আগে লারসেন মলের ভিতরে ঘুরে ঘুরে আরও কয়েকজনের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাইছিলেন। এই ঘটনার পর মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, গাজা যুদ্ধের পর থেকে এবং অভিবাসীবিরোধী প্রবণতার কারণে আমেরিকায় হামলার ঘটনাও বেড়েছে। প্রথমে নাম ও কোন দেশ থেকে এসেছে, তা জানতে চাওয়া, আর তারপরই সরাসরি ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন। উত্তরে ‘মুসলিম’ শোনামাত্রই ভারতীয় যুবকের উপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল এক মার্কিন ব্যক্তি। শপিং মলের সামনে প্রকাশ্যে ওই যুবককে অন্তত ১৫ বার কোপানো হয়।
এই হাড়হিম করা ঘটনার পর মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার শুরু কীভাবে? আক্রান্ত যুবকের নাম সোহেল। তিনি আমেরিকার উটাহ প্রদেশের ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ‘ভ্যালি ফেয়ার মল’ নামক একটি শপিং মলে কর্মরত। ঘটনার দিন ওই মলের সামনেই সোহেলের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন ৪৮ বছর বয়সি এক মার্কিন নাগরিক। তাঁর নাম পিটার মাইকেল লারসেন। কথোপকথনের শুরুতেই পিটার প্রথমে সোহেলকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর বাড়ি কোথায়? সোহেল অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নিজের নাম জানান। নিজেকে ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু এর পরেই পিটারের আসল উদ্দেশ্য সামনে আসে।
ধর্ম জানতেই একের পর এক ১৫টি কোপভারতীয় পরিচয় পাওয়ার পরই পিটার সরাসরি সোহেলকে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কি মুসলিম?’ সোহেল উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলা মাত্রই আর কোনও কথা না বাড়িয়ে পকেট থেকে ধারাল অস্ত্র বের করে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন পিটার। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহেলের শরীরে পরপর অন্তত ১৫ বার ছুরির কোপ বসানো হয়। প্রকাশ্যে শপিং মলের সামনে এই নারকীয় হামলা চালানো হলেও ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়েন উপস্থিত সকলে। রক্তাক্ত অবস্থায় সোহেলকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযুক্ত পিটার মাইকেল লারসেনকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর সূত্রের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী ভারতীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই ঘটনার পর চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।