খামেনির অন্তিম সৎকারে উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিরা

Photo Source- IANS

আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানায় নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিনের সেই ঘটনার ১২৬ দিন পর তেহরানে তাঁর অন্ত্যেষ্টির আয়োজন করেছে ইরান। শুক্রবার তেহরানে পৌঁছে প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা, বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন-সহ ভারতীয় প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদ, পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি এবং জৈন মুনি আচার্য লোকেশ-সহ আরও বেশ কয়েকজন। এমনকি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরে তারা সাংবাদিক সম্মেলনেও যোগ দিয়েছিলেন।

ইরানের তরফে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এখনও নিশ্চিত নয়, তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরান যাবেন কি না। ভারত জানিয়েছে, ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর অন্তিম বিদায় অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা।

সলমান খুরশিদ বলেন, ‘আমি দলের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি।’


এছাড়াও ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সাংসদ ও শিয়া ধর্মগুরু আগা সইয়েদ রুহুল্লাহ, জেএন্ডকে পিপলস কনফারেন্সের নেতা ও শিয়া ধর্মগুরু ইমরান আনসারি, শিয়া ধর্মগুরু আগা সাইয়েদ মোহাম্মদ হাদি, মাসরুর আব্বাস আনসারি, আগা সইয়েদ হাসান মোসভি আল সাফভি এবং জৈন মুনি ও আধ্যাত্মিক গুরু আচার্য লোকেশ মুনিও খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ইরান যাচ্ছেন।

ইরানে ৩৬ বছর শাসন করা আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তিনি আমেরিকার কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তেহরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে খামেনেইর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর এবার তাঁর দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ৪ জুলাই তেহরানে তাঁর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে, তাঁর জন্মস্থানে, তাঁকে দাফন করা হবে। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  সেখানে প্রধান প্রার্থনাকক্ষে রাখা হয়েছে প্রয়াত নেতার মরদেহের কফিনটি।