পাকিস্তানে ১২৫ বছরের পুরনো গুরুদ্বার ভাঙার নিন্দায় সরব ভারত

Image: IANS

পাকিস্তানে ভেঙে ফেলা হল ১২৫ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক গুরুদ্বার। আর তা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। নয়াদিল্লি এই ঘটনাকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। বরং পাকিস্তানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলারই অংশ হিসেবে মনে করছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং ইসলামাবাদের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে লাহৌর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ফারুকাবাদে। সেখানে রয়েছে ১২৫ বছরের পুরনো গুরুদ্বার শ্রী গুরু সিং সভা সাহিব। এক স্থানীয় ব্যবসায়ী গুরুদ্বারটির একটি অংশ ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ঘিরে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ জন্মায়।

ঘটনার নিন্দা করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শিখদের ধর্মীয় উপাসনাস্থলে এই ধরনের ভাঙচুর অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক।তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থান ও তাদের উপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের পরিকল্পিত আক্রমণ চলছে বলে তিনি জানান।


ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তান সরকার অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করুক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত গুরুদ্বারের ভেঙে ফেলা অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হোক।

উল্লেখ্য, পহেলগাম হত্যাকাণ্ড এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদে মদত এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানে সমালোচনা করেছে। ফারুকাবাদের এই ঘটনাকে সামনে রেখেও একই অবস্থান নিল নয়াদিল্লি।

ভারতের মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও, দেশের অভ্যন্তরে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় পাকিস্তানের ব্যর্থতা ফের সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটেই ফারুকাবাদের গুরুদ্বার ভাঙার ঘটনায় কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।