পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। এর জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে পড়শি দেশ বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। সব কিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবারই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছনোর কথা। জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় আসামের নূমালিগড় থেকে তেল পাঠানো শুরু হবে। পরে শিলিগুড়ি থেকেও অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। বিপদের বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল দেবে ভারত।
দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সরাবরাহ সহজ করতে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপ লাইন চালু করা হয়েছিল ২০২৩ সালের শেষ দিকে। ২০২১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পাইপলাইন তৈরি করা হয়। এই পাইপলাইন নির্মাণে ব্যয়ের একটি বড় অংশ বহন করে ভারত, আর বাকি অংশ দেয় বাংলাদেশ। এজন্য প্রয়োজনীয় খরচে ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ৫০ শতাংশ বহন করে ভারত। প্রকল্পটি চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়েছে।
তবে এই প্রকল্প নিয়ে অতীতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। হাসিনা সরকারের সময় এই পাইপলাইন চালুর সিদ্ধান্তকে বিরোধী দলগুলি তীব্রভাবে সমালোচনা করেছিল। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সাময়িকভাবে ভারত থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সেই মৈত্রী পাইপলাইনই আবার বাংলাদেশের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সংকটের আশঙ্কায় বহু মানুষ অতিরিক্ত পেট্রল ও ডিজেল মজুত করতে শুরু করেছেন। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের অনেক পেট্রল পাম্পে জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ নির্ভর করে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির উপর। ফলে জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সার উৎপাদনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং কয়েকটি সার কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আগামী চার মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। সামনে রমজান ও ইদের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে বলেই এই অতিরিক্ত জ্বালানির প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব গুরুতর আকার নিয়েছে বাংলাদেশে। তেল সংকটের মোকাবিলায় সে দেশে বাইকে ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার করে তেল দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বন্ধ করার পাশাপাশি আগাম ইদের ছুটি ঘোষণা হয়েছে। গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে। ২-৩ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। তেলের পাম্পগুলিতে সামনে দেখা গিয়েছে দীর্ঘ লাইন।